বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬ ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Newspaper

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের ঋণের পরিমাণ ছাড়িয়েছে ৩৯ ট্রিলিয়ন ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের ঋণের পরিমাণ ছাড়িয়েছে ৩৯ ট্রিলিয়ন ডলার

হরমুজ প্রণালী | ছবি: সংগৃহীত

সামরিক বিস্তার যখন রাজনৈতিক কৌশল ছাপিয়ে যায়, তখন সাম্রাজ্যের পতন ঘটে। দুর্বল হয়ে পড়ে অর্থনৈতিক ভিত্তি। তারা যাদের দমন করতে চায় সেই মানুষগুলো প্রচণ্ড শক্তির বিরুদ্ধেও দীর্ঘকাল টিকে থাকার সক্ষমতা অর্জন করে ফেলে। এই প্রেক্ষাপটে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা অনেকের মনে ১৯৫৬ সালের সুয়েজ সংকটের স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছে।

সামরিক বিস্তার যখন রাজনৈতিক কৌশল ছাপিয়ে যায়, তখন সাম্রাজ্যের পতন ঘটে। দুর্বল হয়ে পড়ে অর্থনৈতিক ভিত্তি। তারা যাদের দমন করতে চায় সেই মানুষগুলো প্রচণ্ড শক্তির বিরুদ্ধেও দীর্ঘকাল টিকে থাকার সক্ষমতা অর্জন করে ফেলে। এই প্রেক্ষাপটে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা অনেকের মনে ১৯৫৬ সালের সুয়েজ সংকটের স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছে। সুয়েজ খালের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে সংঘাত ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পতনের গুরুত্বপূর্ণ মোড় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ইতিহাসের চাকা কি আবারও ঘুরে আসছে? বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালি কি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একই পরিণতি বয়ে আনবে-এমন প্রশ্নই উঠছে বিশেষজ্ঞ মহলে। ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইস্তাম্বুল জাইম ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর ইসলাম অ্যান্ড গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক সামি আল-আরিয়ান বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত বাড়ায় ১৯৫৬ সালের সুয়েজ সংকটের পুনরাবৃত্তির ঝুঁকিতে রয়েছে ওয়াশিংটন। মিডল ইস্ট আই।

১৯৫৬ সালে সুয়েজ খালের জাতীয়করণ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের জন্য তেমনই নাজুক সন্ধিক্ষণ ছিল। সেই সংকট তখন ব্রিটেনের আর্থিক ভঙ্গুরতাকে উন্মোচিত করে দিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের চাপে ব্রিটিশ স্টার্লিংয়ের ওপর এমন টান পড়ে, যা মুদ্রার বৈশ্বিক রিজার্ভের পতন ডেকে আনে। সাম্রাজ্যবাদীরা পিছু হটতে বাধ্য হন। সত্তর বছর পর, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ঘটে চলা এখনকার ক্রমবর্ধমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে ঠিক সেই সংকটের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। এই মিলটা অগভীর বা কথার কথা নয়। উভয় ক্ষেত্রেই একটি শক্তিশালী সাম্রাজ্যবাদী ব্যবস্থা এমন একটি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ আঞ্চলিক শক্তির (ইরান) মুখোমুখি হয়েছে। যারা নতি স্বীকার করতে নারাজ। সত্তর বছর আগে সাম্রাজ্যবাদী যুক্তরাজ্য যা করেছিল, এখন সাম্রাজ্যবাদী যুক্তরাষ্ট্র একইভাবে তার অবস্থান ধরে রাখতে সামরিক শক্তির ওপর নির্ভর করছে। ফলাফল কেবল যুদ্ধের ওপর নির্ভর করছে না, বরং গভীর অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা এবং বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্যের দ্বারা নির্ধারিত হতে চলেছে। ১৯৫৬ সালের জুলাই মাসে যখন মিসরের প্রেসিডেন্ট গামাল আবদেল নাসের সুয়েজ খাল জাতীয়করণ করেন, তখন তিনি শুধু মিসরের সার্বভৌমত্বই ঘোষণা করেননি, তার কর্তৃত্বেরও জানান দিয়েছিলেন। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শক্তির ভিত্তিকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। সুয়েজ খাল কেবল একটি বাণিজ্যিক রুট ছিল না, এটি ছিল ব্রিটেনের সঙ্গে তার অবশিষ্ট ঔপনিবেশিক অঞ্চলগুলোকে সংযুক্ত করার কৌশলগত ধমনী এবং সাম্রাজ্যের মর্যাদার প্রতীক। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে ভীষণ দুর্বল হয়ে পড়া ব্রিটিশ সাম্রাজ্য তখন ফ্রান্স এবং ইসরাইলের সঙ্গে মিলে মিসর আক্রমণ করে। নিজের শক্তিতে নয়, অন্যের শক্তিতে যুদ্ধ করার কারণে সেই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে ব্রিটিশ আধিপত্যের চূড়ান্ত অবসান হিসাবে চিহ্নিত হয়ে আছে।

সুয়েজ সংকট প্রমাণ করে দিয়েছিল, কেবল সামরিক শক্তি দিয়ে একটি সাম্রাজ্যকে টিকিয়ে রাখা যায় না। যুদ্ধক্ষেত্রে স্পষ্ট সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা সত্ত্বেও অর্থনৈতিক দুর্বলতা এবং কৌশলগত অতি-বিস্তার শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক পরাজয় ঘটাতে পারে। তখন ছিল ব্রিটেন, এখন যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৫৬ সালের ব্রিটিশ সাম্রাজ্য এবং আজকের যুক্তরাষ্ট্র-উভয়েই আঞ্চলিক শক্তির তুলনায় সামরিক দিক থেকে শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী। তবু অন্তর্নিহিত দুর্বলতার কারণে তাদের ক্ষমতা বেশ সীমিত। যুদ্ধ-পরবর্তী ঋণের ভারে জর্জরিত ব্রিটেন অর্থনৈতিক সংকটে দুর্বল হয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্র এখন অনুরূপ সীমাবদ্ধতার সম্মুখীন। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণের পরিমাণ ৩৯ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে এবং ক্রমাগত ঘাটতির কারণে ওয়াশিংটনের সাম্রাজ্যবাদী উচ্চাকাঙ্ক্ষা ডলারভিত্তিক দুর্বল অর্থনীতির কাছে জিম্মি হয়ে পড়ছে। কমছে ডলারের ওপর আস্থা। সেই সময়ের ব্রিটেনের মতো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা থাকলেও তারা বর্তমানে নিজেদের শক্তির চাইতে অনেক বেশি ছড়িয়ে পড়ছে। পূর্ব ইউরোপ থেকে শুরু করে ইন্দো-প্যাসিফিক পর্যন্ত একাধিক যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য, যা একসময় যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলের কেন্দ্রবিন্দু ছিল, কয়েক দশকের বাহুল্য ব্যয় এবং বেশ কয়েকটি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার পর এখন একটি রণাঙ্গনে এসে ঠেকেছে, সেটা ইরান। তবু মনোযোগ এবং সম্পদ বিভাজনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণের সক্ষমতা কেড়ে নিয়েছে।

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, সাম্রাজ্যবাদী সমর্থন উঠে গেলে ঔপনিবেশিক বসতি বা স্থাপনা আর টিকে থাকে না। জায়নবাদী কাঠামোর বিলুপ্তি এখন আর ‘যদি’র প্রশ্ন নয়, বরং ‘কখন’ তা ঘটবে, সেই প্রশ্ন সামনে চলে এসেছে। সুয়েজ খাল যদি মার্কিন সাম্রাজ্যের পতন ঘটায় আর ইরানকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক শক্তির উত্থান ঘটে, তাহলে হরমুজ ইঙ্গিত দিচ্ছে, মার্কিন সাম্রাজ্যের প্রতিস্থাপন নয়, বরং সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্য ক্রমশ ক্ষয়ে যেতে থাকবে।

আরও

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় ইরানে ৯৪২ স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় ইরানে ৯৪২ স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৯৪২টি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান। রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে ইরান...

২০২৬-০৪-১৩ ১৪:১৮

হরমুজ প্রণালীর বিকল্প খুঁজছে উপসাগরীয় দেশগুলো

আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালীর বিকল্প খুঁজছে উপসাগরীয় দেশগুলো

হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনো মার্কিন সামরিক জাহাজ পার হওয়ার খবর সরাসরি অস্বীকার করেছে ইরান। সেই সঙ্গে তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে...

২০২৬-০৪-১৩ ১৪:১৬

লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত ৪

আন্তর্জাতিক

লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত ৪

ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় দক্ষিণ লেবাননে চারজন নিহত হয়েছেন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে এ খবর নিশ্চিত...

২০২৬-০৪-১৩ ১৪:১৫

ইরানের হামলায় ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক হিসাব প্রকাশ করল ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক

ইরানের হামলায় ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক হিসাব প্রকাশ করল ইসরায়েল

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে ইসরায়েলের মোট ক্ষয়ক্ষতি প্রায় ১১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে দেশটির অর্থ মন্ত্...

২০২৬-০৪-১৩ ০৪:২৩

হরমুজ পাড়ি দিয়েছে দুই মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, ট্রাম্পের দাবি নাকচ করল ইরান

আন্তর্জাতিক

হরমুজ পাড়ি দিয়েছে দুই মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, ট্রাম্পের দাবি নাকচ করল ইরান

হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠালে কঠোর জবাব দেয়া হবে বলে৩ হুঁশিয়ার করেছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস কোরের (আইআরজিসি) নৌব...

২০২৬-০৪-১৩ ০৪:২১

হরমুজ প্রণালি নিয়ে কঠোর অবস্থান ইরানের, সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের দাবি ডেপুটি স্পিকারের

আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালি নিয়ে কঠোর অবস্থান ইরানের, সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের দাবি ডেপুটি স্পিকারের

হরমুজ প্রণালি এখন সম্পূর্ণভাবে ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার হাজি বাবাই। স...

২০২৬-০৪-১৩ ০০:১২